পিওথলির পাথর কেন হয়, লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিন
প্রিয় পাঠক, আপনি কি পিওথলির পাথর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্ব পূর্ণ। কারণ এই আর্টিকেলে পিওথলির পাথর কি, পিওথলির পাথর কেন হয় এবং এর লক্ষণ ও চিকিৎসা সহ সকল বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
তাই আপনি যদি পিওথলির পাথর সমস্যাই ভুগে থাকেন কিংবা আপনার পরিচিত কেউ যদি এই সমস্যাই ভুগে থাকে, তাহলে পিওথলির পাথর কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানা অপরিহার্য।
পিত্তথলির পাথর হল একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা যা বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ শতাংশ লোককে প্রভাবিত করে। পিত্তথলি হল একটি ছোট, নাশপাতি আকৃতির অঙ্গ যা যকৃতের নীচে পেটের ডান দিকে অবস্থিত। এটি পিত্ত তৈরি করে, যা খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
পিত্তথলির পাথর হল পিত্তের ঘন হওয়ার ফলে তৈরি হওয়া শক্ত, কঠিন পদার্থ। পাথরগুলি বিভিন্ন আকারে এবং আকারে আসতে পারে, এবং তারা কয়েকটি উপাদান দিয়ে তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে কোলেস্টেরল, পিত্ত লবণ এবং বিলিরুবিন।
পিত্তথলির পাথরগুলি প্রায়শই লক্ষণগুলির কারণ হয় না, তবে যদি তারা করে তবে তারা সাধারণত তীব্র ব্যথা, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে। ব্যথা সাধারণত পেটের ডান দিকের উপরের অংশে হয় এবং খাওয়ার পরে বাড়তে পারে।
পিত্তথলির পাথর কি
পিত্তথলির পাথর হলো পিত্তথলির একটি রোগ যাতে পিত্তথলিতে পাথর জমা হয়। পিত্তথলি হলো একটি ছোট, ডিম্বাকৃতি অঙ্গ যা যকৃতের নীচে থাকে। এটি পিত্ত সংরক্ষণ করে, যা চর্বি হজমে সাহায্য করে।
পিত্তথলির পাথর বিভিন্ন আকারে এবং আকারে আসতে পারে। ছোট পাথরগুলি সাধারণত উপসর্গ সৃষ্টি করে না, তবে বৃহত্তর পাথরগুলি ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে।
পিত্তথলির পাথরের প্রধান দুটি ধরন হল কোলেস্টেরল পাথর এবং পিগমেন্ট পাথর। কোলেস্টেরল পাথর সবচেয়ে সাধারণ ধরন এবং এগুলি পিত্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের কারণে তৈরি হয়। পিগমেন্ট পাথর কম সাধারণ এবং এগুলি পিত্তে অতিরিক্ত পিগমেন্টের কারণে তৈরি হয়।
পিওথলির পাথর কেন হয়
পিত্তথলির পাথর হল পিত্তথলির ভেতরে শক্ত, কঠিন পদার্থের তৈরি গোলাকার গঠন। পিত্তথলি হল একটি ছোট, ডিম্বাকৃতির থলি যা যকৃতের নীচে অবস্থিত। এটি পিত্ত সংরক্ষণ করে, যা একটি তরল যা চর্বি হজমে সাহায্য করে।
পিত্তথলির পাথরের প্রধান কারণ হল পিত্তের অস্বাভাবিকতা। পিত্ত হল একটি জটিল তরল যা যকৃত দ্বারা তৈরি হয়। এটিতে কোলেস্টেরল, পিত্ত অ্যাসিড, লবণ এবং অন্যান্য উপাদান রয়েছে।
পিত্তথলির পাথর দুটি প্রধান ধরণের হয়, যেমনঃ
- কোলেস্টেরল পাথরঃ এই পাথরগুলি কোলেস্টেরল থেকে তৈরি হয়, যা একটি চর্বি জাতীয় পদার্থ। কোলেস্টেরল পাথর সবচেয়ে সাধারণ ধরণের পিত্তথলির পাথর।
- পিত্ত অ্যাসিড পাথরঃ এই পাথরগুলি পিত্ত অ্যাসিড থেকে তৈরি হয়, যা পিত্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পিত্ত অ্যাসিড পাথর কম সাধারণ।
পিত্তথলির পাথর হওয়ার অন্যান্য ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে রয়েছে, যেমনঃ
- অতিরিক্ত ওজন
- স্থূলতা
- ডায়াবেটিস
- গর্ভনিরোধক বড়ি গ্রহণ
- পরিবারে পিত্তথলির পাথরের ইতিহাস
- দীর্ঘস্থায়ী যকৃতের রোগ
- কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ, যেমন অ্যান্টিবায়োটিক
মনে রাখবেন, পিত্তথলির পাথর প্রায়শই কোনও লক্ষণ সৃষ্টি করে না। তবে, কিছু ক্ষেত্রে, পাথর পিত্তথলির বাইরে যেতে পারে এবং পিত্তনালীকে আটকে দিতে পারে। এটি গুরুতর ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে।
পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ
পিত্তথলির পাথরের লক্ষণগুলি পাথরের আকার, অবস্থান এবং পিত্তথলির বাইরে পাথর চলে যাওয়ার (পিত্তনালীর মধ্যে আটকে যাওয়া) উপর নির্ভর করে।
পিত্তথলির পাথরের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছেঃ
- তীব্র ব্যথাঃ পিত্তথলির পাথরের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল তীব্র ব্যথা, যা পেটের ডান উপরের কোণে শুরু হয় এবং পিঠে বা ডান কাঁধে ছড়িয়ে যেতে পারে। ব্যথা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং ৩০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়।
- বমি বমি ভাব এবং বমিঃ পিত্তথলির পাথর বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে।
- অস্বস্তিঃ পিত্তথলির পাথর পেটে অস্বস্তি বা চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
- জন্ডিসঃ পিত্তনালীতে পাথর আটকে গেলে জন্ডিস হতে পারে। জন্ডিসের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে হলুদ ত্বক, চোখের সাদা অংশ এবং গাঢ় প্রস্রাব।
পিত্তথলির পাথরগুলি প্রায়শই কোনও লক্ষণ সৃষ্টি করে না। যদি আপনার কোনও লক্ষণ থাকে, তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে দেখা করা গুরুত্বপূর্ণ।
পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসা
ওষুধ
লেজার
অস্ত্রোপচার
পিত্তথলির পাথর প্রতিরোধ
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুনঃ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা পিত্তথলির পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে, ক্যালোরি গ্রহণ হ্রাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ নিয়মিত ব্যায়াম পিত্তথলির পাথর তৈরির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি-তীব্রতার ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিট উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম করুন।
- প্রচুর পরিমাণে ফল, শাকসবজি এবং পূর্ণ শস্য খানঃ ফল, শাকসবজি এবং পূর্ণ শস্যগুলি ফাইবার সমৃদ্ধ, যা পিত্তথলির পাথর তৈরির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কমপক্ষে 5টি ফল এবং শাকসবজি এবং 6টি আউন্স পূর্ণ শস্য খান।
- অতিরিক্ত চর্বি এবং কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুনঃ অতিরিক্ত চর্বি এবং কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার পিত্তথলির পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ সীমিত করুন এবং দিনে ২০০ মিলিগ্রাম বা তার কম কোলেস্টেরল গ্রহণ করুন।
- প্রচুর পরিমাণে জল পান করুনঃ প্রচুর পরিমাণে জল পান করা পিত্তথলির পাথর তৈরির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস জল পান করুন।
- নিয়মিতভাবে পিত্তথলি খালি করুনঃ যখন আপনি খাবার খান তখন পিত্তথলি সংকুচিত হয় এবং পিত্তকে ক্ষুদ্রান্ত্রে ছেড়ে দেয়। নিয়মিতভাবে খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা পিত্তথলিকে আরও নিয়মিতভাবে খালি করতে সাহায্য করতে পারে।
- কোলেস্টেরল-কম ওষুধ গ্রহণ করুনঃ যদি আপনার উচ্চ কোলেস্টেরল থাকে তবে আপনার ডাক্তার আপনাকে কোলেস্টেরল-কম ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন। এই ওষুধগুলি পিত্তথলির পাথর তৈরির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- আপনার পরিবারের ইতিহাস পরীক্ষা করুনঃ আপনার পরিবারের যদি পিত্তথলির পাথর থাকে তবে আপনার নিজের ঝুঁকি বেশি। আপনার পরিবারের ইতিহাস সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
পিত্তথলির পাথর সম্পর্কে কিছু FAQ এবং উত্তর
পিত্তথলির পাথর কী?
পিত্তথলির পাথর কেন হয়?
পিত্তথলির পাথর হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে
- কোলেস্টেরলঃ পিত্তথলিতে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুব বেশি হলে কোলেস্টেরল পাথর তৈরি হতে পারে।
- পিত্ত অ্যাসিডঃ পিত্ত অ্যাসিডের মাত্রা খুব বেশি হলে পিত্ত অ্যাসিড পাথর তৈরি হতে পারে।
- পিত্তের স্থবিরতাঃ পিত্তথলিতে পিত্তের স্থবিরতা হলে পাথর তৈরি হতে পারে।
- বংশগত কারণঃ কিছু লোকের পিত্তথলির পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেশি হতে পারে, কারণ তাদের পরিবারে এই রোগের ইতিহাস রয়েছে।
পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ কী কী?
- উপরে ডান দিকে পেটে তীব্র ব্যথা
- বমি বমি ভাব বা বমি
- বদহজম
- বমি বমি ভাব
- জ্বর
পিত্তথলির পাথর কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসা কী?
পিত্তথলির পাথর প্রতিরোধ করা যায় কি?
পিত্তথলির পাথর প্রতিরোধের জন্য, আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি নিতে পারেনঃ
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন
- প্রচুর পরিমাণে ফল, শাকসবজি এবং পূর্ণ শস্য খান
- অতিরিক্ত চর্বি এবং কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন
- প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন
উপসংহার